বাংলাদেশে বিমান চলাচল বন্ধের সিন্ধান্তে দিশেহারা প্রবাসীরা

0
218

সাইফুদ্দিন খালেদ, সংযুক্ত আরব আমিরাত :

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামি ১৪ এপ্রিল থেকে ১ সপ্তাহের জন্য আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধের সিন্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা যায়। হঠাৎ করে বিমান চলাচল বন্ধের সিন্ধান্তে দিশেহারা হয়ে পড়েছে প্রবাসীরা, বিপাকে পড়েছেন হাজারো প্রবাসী।

সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী আহমেদ উল্লাহ গত ২৫ অক্টোবর দেশে ছুটিতে গিয়েছিলেন। আবুধাবি ফিরতে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হলে অপেক্ষার সময় বাড়ে তার। সর্বশেষ অনলাইনে আবেদন করে ‘সবুজ সংকেত’ মিলে আহমেদ উল্লাহর। দেশটিতে একটি প্রতিষ্ঠানের পার্টনার হিসেবে কর্মরত তিনি। আমিরাত ফেরার অনুমতি পেয়ে চড়া মূল্যে টিকিট কিনেছেন বাংলাদেশ বিমানের। ১৭ এপ্রিল আবুধাবির উদ্দেশে উড়ে যাবার কথা ছিল তার। কিন্তু তা আর হচ্ছে না এখন।

একই দেশে দুই মাসের ভ্রমণে যাবার কথা মুন্নি বড়ুয়ার। ১৪ এপ্রিলের জন্য এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট বুকিং দিয়েছেন স্বামী সোহেল বড়ুয়া। দুই মাসের ভ্রমণ শেষে ১৪ জুলাই পুনারায় দেশে ফেরার টিকিটও নিশ্চিত করা ছিল তার। এখন আমিরাত যাওয়াই তার অনিশ্চিত হয়ে গেল।

আন্তর্জাতিক রুটের সব ফ্লাইট বন্ধ করায় তাদের মতো এমন হাজার হাজার প্রবাসীর স্ব স্ব কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। টিকিটের মূল্য কিংবা হোটেল বুকিংয়ের টাকা ফেরত নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। এরচেয়েও বড় ভয়ের আশঙ্কায় থাকা প্রবাসীরা সমকালকে জানান, ওই সব দেশে তাদের ভিসা, আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার কথা। যথা সময়ে ফিরতে না পারলে এগুলো নবায়ন করাও সম্ভব হবে না। এমনকি হয়ত তারা আর ফিরেও যেতে পারবেন না সেসব দেশে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী আহমেদ উল্লাহ বলেন, অনেকদিন ধরে সবুজ সংকেতের জন্য অপেক্ষা করে আছি। যাও সংকেত এসেছে, এখন টিকিট করেও ফেরা অনিশ্চিত হয়ে গেল। দেশে ফিরেছি ছয় মাস হয়ে যাচ্ছে, সময় মতো না যেতে পারলে আর আমিরাত ঢুকতে পারব কি-না বুঝে উঠতে পারছি না।

মুন্নি বড়ুয়ার স্বামী সোহেল বড়ুয়া জানান, ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা পেয়ে এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। তবে সঠিক কোনো নির্দেশনা দিতে পারেনি তারা।

প্রবাসীরা বলছেন, চলমান করোনা মহামারির শুরু থেকে বহির্বিশ্বের বেশকিছু দেশ আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে দেশে আটকে পড়া প্রবাসীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যান। অনেকের শেষ হয়ে যায় ভিসা ও আকামার মেয়াদ। কিছু কিছু দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে এলে আকাশপথের যোগাযোগ শুরু হয়। পুনারায় আশায় বুক বাঁধা শুরু করেন আটকে পড়া প্রবাসীরা। নিয়োগকর্তা বা নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রবাসে ফেরার অনুমতি নিতে শুরু করেন তারা। কিন্তু এবার দেশ থেকে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ায় আবারও ভুক্তভোগী প্রবাসীদের অনিশ্চয়তা বেড়ে গেছে। বিমান টিকিট কিনে, হোটেল বুকিং দিয়েও বিদেশে ফিরে যাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা শঙ্কা। অনেক প্রবাসীর দাবি, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের।

প্রবাসী ব্যবসায়ী সনজিত কুমার শীল বলেন, হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হলে হাজারো প্রবাসীকে সিমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হবে। এছাড়াও কোটি কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখিন হবে এজেন্সিগুলি। যেখানে পোষাক শিল্প চালু রাখছে সেখানে বিমান চলাচলে সমস্যা কেন হবে। সুতরাং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ করবো যেন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু রাখে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here